নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ও ঢাকা-১৮ আসন যেন একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবনে জেল, পুলিশ ও রিমান্ডের কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া এই নেতা এখন এ অঞ্চলের মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক ও আপনজন হিসেবে পরিচিত। তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও ত্যাগী মনোভাব তাকে এই আসনের অন্যতম যোগ্য মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তেজগাঁও কলেজের সাবেক ভিপি হিসেবে ছাত্র রাজনীতিতে হাতেখড়ি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের। পরবর্তী সময়ে তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তিনি সংগঠনকে তৃণমূল পর্যন্ত সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যা অনেক নেতার কাছেই অনুকরণীয় ছিল। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি ছিলেন এক অকুতোভয় সিপাহসালার।
রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তার বিরুদ্ধে প্রায় তিন শতাধিক মামলা দায়ের করা হয় এবং ডজনখানেক মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। জীবনের যৌবনের বিরাট একটি অংশ তার কেটেছে কারাগারের প্রকোষ্ঠে। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে বিএনপির এমপি পদপ্রার্থী ছিলেন এবং উপ-নির্বাচনেও তিনি দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। স্থানীয়দের মতে, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি মানুষের কাছে ভালোবাসার মানুষ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
ঢাকা-১৮ নির্বাচনী এলাকার বিমানবন্দর, দক্ষিণখান, উত্তরখান, খিলক্ষেত ও তুরাগ থানার ওয়ার্ড কমিটি পর্যন্ত গঠন করে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছেন তিনি। আসন্ন নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপির আরও কয়েকজন নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও, ত্যাগ, তিতিক্ষা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকেই যোগ্য দাবিদার মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা বিশ্বাস করেন, দলের হাইকমান্ড একজন পরীক্ষিত ও জনপ্রিয় নেতা হিসেবে তাকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে এবং তার নেতৃত্বে এই আসনে বিজয় অর্জন সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বর্তমান ছয় সদস্যের আংশিক আহ্বায়ক কমিটিতেও তিনি যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন।